আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সভাপতি তোমোকো আকানে ও সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সংস্থাটির ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ‘স্পেশালি ডেজিগনেটেড ন্যাশনালস’ (এসডিএন) তালিকায় জাপানি নাগরিক আকানে ও সেনেগালের নাগরিক সেয়েকে যুক্ত করা হয়েছে। তোমোকো আকানে ২০২৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক আদালতের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ’ সংক্রান্ত যে ‘নির্বাহী আদেশ’ স্বাক্ষর করেছিলেন, তার অধীনেই এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে একই নির্বাহী আদেশের অধীনে সাবেক প্রধান প্রসিকিউটরৃ করিম খান ও আটজন বিচারকসহ আইসিসির ১০ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ওয়াশিংটন।
নতুন এই তালিকার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত আকানে ও সেয়ের যাবতীয় সম্পদ জব্দ থাকবে এবং কোনো মার্কিন নাগরিক বা সংস্থা তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক বা বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবে না।
গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর থেকেই আদালতের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করে বলেন, যেসব দেশ আইসিসির আইনি এখতিয়ার বা ক্ষমতা মানে না, সেসব দেশের কর্মকর্তাদের তদন্ত ও বিচারের প্রক্রিয়ায় সভাপতি আকানে ও কর্মকর্তা সেয়ে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আইসিসি যে হুমকি তৈরি করছে, তা পুরোপুরি দূর করতে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশগুলোকেও আন্তর্জাতিক এই আদালতে অর্থ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে ক্যাম্প ডেভিডে এক ভাষণে রুবিও উল্লেখ করেন, সদস্য নয় এমন দেশের ওপর এখতিয়ার দাবি করে আইসিসি নিজেকে অবৈধ প্রমাণ করেছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কোনটিই আইসিসির রোম সংবিধির পক্ষভুক্ত দেশ নয়।
ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুসহ সংশ্লিষ্টদের রক্ষা করার লক্ষ্যেই রুবিও এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
আইসিসির প্রথম জাপানি সভাপতি আকানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। গত ডিসেম্বরে সদস্য দেশগুলোর এক সভায় তিনি জানান, কোনো ধরনের বাহ্যিক চাপ তাঁদের বিচারিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে না এবং আদালতের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা অক্ষুণ্ন থাকবে।
সর্বশেষ এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আইসিসির পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।





