নোবেল লরিয়েটদের নোবেল জয়ের মুহূর্ত

Share

কেউ ঘুমাচ্ছিলেন, কেউ ক্লাস নিচ্ছিলেন, কেউ আবার পাহাড়ে ছুটি কাটাতে গিয়ে ফোনই বন্ধ রেখেছিলেন। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর একটি নোবেল পাওয়ার খবরও অনেকের জীবনে এসেছে একেবারে অপ্রস্তুত মুহূর্তে। কারও খবর পৌঁছে দিয়েছেন প্রতিবেশী, কারও কাছে ফোন করে নোবেল কমিটি পায়নি সাড়া। এমনকি একবার ভুল ব্যক্তিকে নোবেলজয়ী ভেবে ফোনও করেছিল সুইডিশ একাডেমি। ফলে বহু নোবেলজয়ীর জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তটি তৈরি হয়েছে একেবারেই অপ্রত্যাশিতভাবে। ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন আজহারুল ইসলাম অভি

সন্তানদের টিফিন বানাতে গেলেন কার্ল ডেইসেরথ

২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পাওয়া মার্কিন বিজ্ঞানী কার্ল ডেইসেরথের গল্পটি যেন বড় কোনো অর্জনের পরও সাধারণ জীবনের কাছে ফিরে যাওয়ার গল্প। মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণে আলো ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ‘অপটোজেনেটিকস’ বিকাশে অবদানের জন্য তিনি আরও দুই গবেষকের সঙ্গে এ পুরস্কার পান।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, নোবেল কমিটির ফোন আসে স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৭ মিনিটে। ডেইসেরথ প্রথম ফোনটি ধরতে পারেননি। কয়েক সেকেন্ড পর তার স্ত্রী মিশেল মনজে-ডেইসেরথের ফোন বেজে ওঠে। ওপাশ থেকে জানতে চাওয়া হয়, কার্লের সঙ্গে কথা বলা যাবে কি না। খবরটি শোনার পর ডেইসেরথ কিছুক্ষণের জন্য কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে জানান। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ সেকেন্ড তিনি ঠিকমতো কথা গুছিয়ে বলতে পারেননি।

কিন্তু সেই রাতের ঘটনাই তার দিনের শেষ দায়িত্ব ছিল না। সকালে সন্তানদের স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হয়। ডেইসেরথের জন্য সন্তানদের স্যান্ডউইচ বানানো নিয়মিত কাজ। নোবেল জয়ের সকালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তিন সন্তানের জন্য তিনি ছয়টি স্যান্ডউইচ তৈরি করেন। একটি সন্তানের স্যান্ডউইচে কিশমিশের পাউরুটি থাকতেই হবে এমন শর্তও ছিল।

বিশ্বজুড়ে অভিনন্দন আর সংবাদমাধ্যমের ফোনের ভিড়ের মধ্যেও সন্তানদের টিফিন বানানোর দায়িত্বটি থেকে যায়। ঘটনাটি দেখায়, নোবেলজয়ীর পরিচয়ের বাইরেও একজন মানুষের পারিবারিক জীবন কতটা স্বাভাবিক হতে পারে।

পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে জেনেছিলেন ফ্রেড র‌্যামসডেল

২০২৫ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী ফ্রেড র‌্যামসডেলের ক্ষেত্রে খবরটি পৌঁছেছিল আরও অপ্রত্যাশিতভাবে। তিনি তখন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং অঞ্চলের পাহাড়ে স্ত্রী লরা ও’নিলের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে হাঁটা, ক্যাম্পিং ও ভ্রমণ করছিলেন। ভ্রমণের সময় মোবাইল ফোনের দিকে তার বিশেষ নজর ছিল না। নোবেল পুরস্কার ঘোষণার দিনটি যে এসে গেছে, সেটিও তার মাথায় ছিল না।

র?্যামসডেল ও তার স্ত্রী যখন ইয়েলোস্টোন জাতীয় উদ্যান পেরিয়ে একটি ছোট জনপদের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন স্ত্রীর ফোনে আবার নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। এরপর ফোনে জমে থাকা অভিনন্দনবার্তা আসতে শুরু করে। তার স্ত্রীর কাছে অনেকগুলো মেসেজ জমা হয়েছিল বলে র‌্যামসডেল পরে এক সাক্ষাৎকারে জানান।

স্ত্রী হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে ওঠেন। র‌্যামসডেল প্রথমে ভেবেছিলেন, আশপাশে হয়তো গ্রিজলি ভালুক আছে। তারা যে এলাকায় ছিলেন, সেখানে ভালুক দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু স্ত্রী তাকে জানান, তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

প্রথমে তিনি বিশ্বাস করতে চাননি। স্ত্রী ফোনে আসা বার্তাগুলোর কথা বললে খবরটি সত্যি বলে বুঝতে পারেন। এরপর হোটেলে গিয়ে তিনি অনলাইনে নোবেল কমিটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন রাত হয়ে যাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞানী হিসেবে বহু বছর গবেষণার পর এই স্বীকৃতি এলো এমন সময়ে, যখন তিনি পুরস্কার নিয়ে ভাবছিলেনই না।

প্রতিবেশীর কাছ থেকে জেনেছিলেন পল মিলগ্রম

২০২০ সালে অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার পান স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অর্থনীতিবিদ পল মিলগ্রম ও রবার্ট উইলসন। তাদের গবেষণা ছিল নিলাম তত্ত্বের উন্নয়ন এবং নতুন ধরনের নিলাম পদ্ধতি উদ্ভাবন নিয়ে। কিন্তু মিলগ্রমের কাছে খবরটি পৌঁছানোর পদ্ধতিটি ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমী। সকালে তার বাড়ির দরজায় কড়া নাড়েন প্রতিবেশী রবার্ট উইলসন। দরজা খুলতেই উইলসন বলেন, ‘পল, আমি বব উইলসন। তুমি নোবেল পুরস্কার পেয়েছ।’

উইলসন কেবল তার প্রতিবেশী ছিলেন না; তিনি মিলগ্রমের সাবেক শিক্ষক ও পরামর্শদাতাও। সবচেয়ে মজার বিষয়, তিনিও একই পুরস্কারের সহবিজয়ী। নোবেল কমিটি প্রথমে উইলসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেয়েছিল। কিন্তু অপ্রত্যাশিত ফোন পেয়ে তিনি সেটিকে স্পাম বা অযাচিত ফোন ভেবে নিজের বাসার ফোনের সংযোগ খুলে রেখেছিলেন। ফলে কমিটি তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর উইলসন ও তার স্ত্রী মেরি মিলগ্রমের বাড়িতে যান। ভোরের অন্ধকারে দরজায় কড়া নাড়া এবং ঘণ্টা বাজানোর পুরো ঘটনাটি মিলগ্রমের বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে। মিলগ্রম প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হয়ে শুধু বলেছিলেন, ‘বাহ, ঠিক আছে।’ এত বড় স্বীকৃতির খবর শুনেও তার প্রতিক্রিয়া ছিল সংক্ষিপ্ত। অবশ্য খবরটি বিশ্বাস করার জন্য তাকে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। যিনি খবরটি জানাতে এসেছিলেন, তিনিও ছিলেন সেই পুরস্কারের আরেক বিজয়ী।

একই পুরস্কারের দুই বিজয়ীর একজন অন্যজনের বাড়িতে গিয়ে খবর পৌঁছে দিলেন, এমন ঘটনা নোবেল জয়ের ইতিহাসে বিরল বললেই চলে।

রসায়নের ক্লাসে বসে জেনেছিলেন মালালা

পাকিস্তানি শিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই ২০১৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। তালেবানের হামলার শিকার হওয়ার পরও মেয়েদের শিক্ষার অধিকারের পক্ষে তার অবস্থান বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। কিন্তু নোবেল জয়ের খবরটি তিনি পেয়েছিলেন এমন এক সময়ে, যখন তার জীবন চলছিল একজন শিক্ষার্থীর মতোই।

মালালা পরে জানান, খবরটি জানার সময় তিনি রসায়নের ক্লাসে বসে ছিলেন। পাঠ চলছিল তড়িৎ বিশ্লেষণ বা ইলেকট্রোলাইসিস নিয়ে। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে একজন শিক্ষক এসে তাকে ক্লাসের বাইরে ডেকে নেন। এরপর শিক্ষক তাকে জানান, তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন এবং আরেকজন অধিকারকর্মীর সঙ্গে পুরস্কারটি ভাগ করে নিচ্ছেন। মালালা বলেছিলেন, তিনি পুরস্কারটি পাওয়ার আশা করেননি। ঘোষণার সময় পেরিয়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে তিনি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন যে এবার হয়তো তার নাম আসছে না। তাই শিক্ষকের কাছ থেকে খবরটি শুনে তিনি অবাক হয়ে যান। তবে তার দিনের বাকি অংশে বড় পরিবর্তন আসেনি। তিনি স্কুল ছেড়ে চলে যাননি। বরং সিদ্ধান্ত নেন, দিনের বাকি ক্লাসগুলো করবেন। পদার্থবিজ্ঞান ও ইংরেজির ক্লাসেও অংশ নেন। সহপাঠী ও শিক্ষকরা তাকে অভিনন্দন জানান।

মালালা পুরস্কারটিকে নিজের প্রচারণার শেষ গন্তব্য হিসেবে দেখেননি। বরং শিশুদের শিক্ষার অধিকারের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ হিসেবে দেখেছিলেন। তাই নোবেল জয়ের খবর তার কাছে ছিল আনন্দের, কিন্তু স্কুলের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার কারণ নয়। একজন শিক্ষার্থীর কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতির খবর আসে ক্লাসের মাঝখানে। তবু তিনি দিনের পড়া শেষ করতে চেয়েছিলেন, এই ঘটনাই মালালার গল্পকে আলাদা করে তোলে।

আকাশে বিমানের ক্যাপ্টেন জানালেন রিচার্ড আর্নস্টকে

সুইস রসায়নবিদ রিচার্ড আর্নস্ট ১৯৯১ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান। নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স বা এনএমআর বর্ণালিবীক্ষণ পদ্ধতির উন্নয়নে অবদানের জন্য তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু খবরটি পাওয়ার সময় তিনি ছিলেন আকাশে, মস্কো থেকে নিউইয়র্কগামী একটি বিমানে।

নোবেল পুরস্কারের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আর্নস্টের সাক্ষাৎকারে বলা হয়েছে, বিমানের ক্যাপ্টেন তার কাছে এসে জানান, তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছিল বিমানটি উত্তর সাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময়।

সেই মুহূর্তে বিমানযাত্রীরা কেউ হয়তো সিনেমা দেখছিলেন, কেউ নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আর্নস্টের সাক্ষাৎকারের বর্ণনা অনুযায়ী, বিমানে একটি সিনেমা চলছিল; তার নোবেল জয়ের খবর জানানোর জন্য সেটি বন্ধ করা হয়নি। আশপাশের সহকর্মীদের অনেকেই বিষয়টি জানতেন না। নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা সাধারণত সংবাদ সম্মেলন, সংবাদমাধ্যম ও ফোনকলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আর্নস্টের ক্ষেত্রে প্রথম খবরটি এসেছিল বিমানের ককপিট থেকে। তার জন্য এটি ছিল এমন এক সংবাদ, যা শোনার পর বিমান থেকে নেমে পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের আগেই জীবনের পরিচিতি বদলে যাওয়ার কথা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। আকাশে হাজার হাজার ফুট ওপরে থাকা অবস্থায় এমন খবর পাওয়ার অভিজ্ঞতা খুব কম মানুষের হয়। তার গল্পে নোবেল জয়ের মুহূর্তটি তাই কোনো বাড়ি, শ্রেণিকক্ষ কিংবা গবেষণাগারে নয়, একটি চলন্ত বিমানের ভেতরে আটকে আছে।

ঘুমের মধ্যে ফোন এলো এলিজাবেথ ব্ল্যাকবার্নের

২০০৯ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান এলিজাবেথ ব্ল্যাকবার্ন, ক্যারল গ্রেইডার ও জ্যাক সস্তাক। ক্রোমোজোমের প্রান্তে থাকা টেলোমিয়ার এবং টেলোমিয়ারেজ নামের এনজাইম নিয়ে তাদের গবেষণা এই স্বীকৃতির ভিত্তি। ব্ল্যাকবার্ন তখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিলেন।

নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত স্মৃতিচারণায় ব্ল্যাকবার্নের নোবেল জয়ের ফোন পাওয়ার মুহূর্তটি সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সময় তখন রাত দুইটা। স্বাভাবিকভাবেই তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। এত রাতে ফোন বেজে ওঠা তার জন্য ছিল অপ্রত্যাশিত। এই ঘটনার বিশেষত্ব হলো, নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় ইউরোপের সময়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সময়ের পার্থক্য অনেক ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। সুইডেনে যখন পুরস্কার ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিজ্ঞানীর রাত গভীর। তাই তাদের ঘুম ভেঙে ফোন ধরতে হয়, অথবা ফোন না ধরলে পরে অন্যভাবে খবর জানতে হয়। ব্ল্যাকবার্নের ক্ষেত্রে নোবেল জয়ের মুহূর্তটি কোনো নাটকীয় দৃশ্য বা অস্বাভাবিক স্থানে ঘটেনি। তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন, আর ফোনের মাধ্যমে জীবনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতির খবর এসে পৌঁছায়।

বন্ধ ছিল ফোন, স্ত্রী জানাল ডব্লিউই মোর্নারকে

২০১৪ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান মার্কিন বিজ্ঞানী ডব্লিউই মোর্নার, এরিক বেটজিগ ও স্টেফান হেল। আলোক অণুবীক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়নে তাদের কাজ জীববিজ্ঞানের ক্ষুদ্রতম গঠন পর্যবেক্ষণের নতুন সুযোগ তৈরি করে। পুরস্কার ঘোষণার সময় মোর্নার ছিলেন ব্রাজিলের রেসিফে শহরে একটি বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে। তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। ফলে নোবেল কমিটি সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে তার বাড়িতে রাত তিনটার দিকে সংবাদমাধ্যমের ফোন আসতে শুরু করে। তার স্ত্রী শ্যারন প্রথমে খবরটি বিশ্বাস করতে পারেননি। একের পর এক সংবাদমাধ্যম ফোন করায় তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টি সত্যি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এরপর তিনি স্বামীকে হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট পাঠান, ফোন চালু করতে বলেন। একই সঙ্গে মোর্নারের হোটেলেও ফোন করেন। মোর্নার তখন মাত্র গোসল শেষ করেছেন। হঠাৎ এমন খবর শুনে তিনি হতবাক হয়ে যান। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, তার হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছিল; খবরটি সত্যি কি না, তা বুঝতে সময় লাগছিল। তার হাতে বেশি সময় ছিল না। দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার প্রস্তুতি নিতে হয়। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা এবং অভিনন্দনের বার্তার মধ্যে তাকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হতে হয়।

খবর শুনেও ক্লাস করালেন অ্যান লুইলিয়ে

২০২৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান অ্যান লুইলিয়ে, পিয়ের আগোস্তিনি ও ফেরেঙ্ক ক্রাউজ। অতি ক্ষুদ্র সময়মাত্রায় ইলেকট্রনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের উপযোগী আলোক স্পন্দন নিয়ে তাদের গবেষণা এ স্বীকৃতির কারণ। পুরস্কার ঘোষণার সময় লুইলিয়ে সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার ক্লাস শুরু হয়েছিল সকাল ১০টায়। সেদিনই বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার কথা। তার ফোন নীরব অবস্থায় থাকায় প্রথম কলগুলো তিনি ধরতে পারেননি। নোবেল কমিটি শেষ পর্যন্ত তার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে, তিনি ক্লাসে আছেন এবং অল্প সময়ের বিরতি পাবেন। বিরতির সময় লুইলিয়ে ফোন ধরেন এবং খবরটি জানতে পারেন। কিন্তু তিনি দীর্ঘ সময় ফোনে থাকেননি। শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য কথোপকথন সংক্ষিপ্ত করেন এবং আবার ক্লাসে ফিরে যান। শিক্ষার্থীদের তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে ক্লাস শেষ করতে হবে, কিন্তু কেন তা বলেননি। এরপর শিক্ষার্থীরা অনুমান করতে থাকেন, তাদের শিক্ষকের সঙ্গে নিশ্চয়ই বড় কিছু ঘটেছে। ক্লাস শেষ হওয়ার পর তারা নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সরাসরি সম্প্রচার দেখতে থাকেন। লুইলিয়ের নাম ঘোষিত হলে শ্রেণিকক্ষে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। একজন শিক্ষক নিজের নোবেল জয়ের খবর পেয়েও শিক্ষার্থীদের পড়া শেষ করার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরে সাক্ষাৎকারও দেন। তাদের কাছে দিনটি ছিল অবিশ্বাস্য। শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন, আর একই সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক পুরস্কারগুলোর একটি তার নামের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে।

বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় জেনেছিলেন পিটার হিগস

২০১৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান ব্রিটিশ পদার্থবিদ পিটার হিগস ও বেলজিয়ামের ফ্রাঁসোয়া ইংলার। মৌলিক কণার ভর কীভাবে সৃষ্টি হয়, সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে যুক্ত হিগস বোসন ধারণার জন্য হিগস দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিলেন। তবু নোবেল জয়ের দিন তিনি সংবাদমাধ্যমের ভিড় থেকে দূরে থাকতে চেয়েছিলেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরস্কার ঘোষণার দিন তিনি এডিনবরার বাড়ি থেকে বেরিয়ে লেইথ এলাকার একটি নিরিবিলি জায়গায় দুপুরের খাবার খেতে যান। তার মোবাইল ফোন ছিল না; ই-মেইলও ব্যবহার করতেন না। ফলে তাকে সরাসরি ফোন করে খবর জানানো সহজ ছিল না। দুপুরের খাবার শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক সাবেক প্রতিবেশী তাকে থামান। ওই নারীর মেয়ে লন্ডন থেকে তাকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে হিগস নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। প্রতিবেশী তাকে অভিনন্দন জানান। হিগস প্রথমে বুঝতেই পারেননি, কোন খবরের কথা বলা হচ্ছে। পরে তিনি জানতে পারেন, পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। হিগসের দীর্ঘদিনের গবেষণা ও তার তত্ত্বের পক্ষে পরীক্ষামূলক প্রমাণ পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পুরস্কারের দিন তিনি সেই আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে চাননি। বরং নিজের মতো করে সময় কাটাতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত খবরটি তার কাছে পৌঁছায় কোনো ফোনকল বা আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে নয়, পথে দেখা হওয়া এক পরিচিত মানুষের কাছ থেকে।

রাত পৌনে দুটোয় জেনেছিলেন ক্যারোলিন বার্তোজির

২০২২ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান মার্কিন বিজ্ঞানী ক্যারোলিন বার্তোজি। জীবন্ত কোষের ভেতরে জৈব অণুর সঙ্গে অন্য অণুর বিক্রিয়া বোঝার কাজে ব্যবহৃত ‘বায়োঅর্থোগোনাল কেমিস্ট্রি’ বিকাশে অবদানের জন্য তিনি মর্টেন মেলডাল ও কে. ব্যারি শার্পলেসের সঙ্গে এ পুরস্কার পান। বার্তোজির কাছে খবরটি আসে রাত ১টা ৪৩ মিনিটে। নোবেল কমিটির একজন প্রতিনিধি ফোন করে তাকে জানান, তিনি পুরস্কার পেয়েছেন। খবরটি শোনার পর তিনি এতটাই বিস্মিত হয়েছিলেন যে ঘটনাটি সত্যি কি না, তা যেন নিজের কাছেই নিশ্চিত করতে চাইছিলেন। সেই রাতে তাকে বলা হয়েছিল, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে খবরটি সীমিত পরিসরে রাখতে হবে। তাই প্রথমেই তিনি ফোন করেন বাবাকে। তার বাবা উইলিয়াম বার্তোজি ছিলেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অবসরপ্রাপ্ত পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক। তখন তার বয়স ছিল ৯১ বছর। মেয়ের কাছ থেকে খবরটি শুনে তিনি খুব আনন্দিত হন। পরে তিনি বার্তোজির বোনদেরও খবরটি জানান। নোবেল জয়ের খবরটি যখন পৃথিবীর বাকি মানুষের কাছে পৌঁছায়নি, তখন বার্তোজির পরিবারে আনন্দের খবরটি ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ফোন, বার্তা ও অভিনন্দনের ঢল নামে। স্ট্যানফোর্ডের সংবাদকর্মীরাও তার বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করেন। গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেলেও সেই মুহূর্তে বার্তোজির প্রথম ভাবনা ছিল পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া।

ফোন নম্বর গোপন থাকায় লিন্ডা বাকের খবর পৌঁছাল অন্য পথে

২০০৪ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান মার্কিন বিজ্ঞানী লিন্ডা বাক ও রিচার্ড অ্যাক্সেল। ঘ্রাণগ্রাহক রিসেপ্টর এবং ঘ্রাণতন্ত্রের সংগঠন নিয়ে তাদের গবেষণার জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে বাকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সহজ ছিল না। তার ফোন নম্বর তালিকাভুক্ত ছিল না। নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত স্মৃতিচারণা অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত কমিটি বাকের কর্মস্থল ফ্রেড হাচিনসন ক্যানসার গবেষণা কেন্দ্রের তার বিভাগের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সিয়াটলে তখন রাত প্রায় দুইটা। সুইডেন থেকে আসা ফোনে পরিচালক প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো কেউ চাকরির বিষয়ে যোগাযোগ করছেন। তিনি ফোনকারীকে জানান, এত রাতে চাকরি নিয়ে ফোন করা ঠিক সময় নয়। কিন্তু ফোনের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানার পর তার প্রতিক্রিয়া বদলে যায়। বাক নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন শুনে তিনি বলেন, এই পুরস্কারই তাকে সেখানে চাকরি পাইয়ে দেবে। মন্তব্যটি ছিল রসিকতাপূর্ণ, কিন্তু ঘটনাটির মধ্যে ছিল বাস্তব এক জটিলতা। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের খবর জানাতে গিয়ে কমিটিকে প্রথমে সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতেই বেগ পেতে হয়েছিল।

ক্র্যামের ফোন প্রথম গিয়েছিল কার্পেট ব্যবাসায়ীর কাছে

নোবেল পুরস্কার নিয়ে অপ্রত্যাশিত ঘটনার তালিকায় ১৯৮৭ সালের একটি ভুল ফোনের গল্পও রয়েছে। যার কাছে ভুল করে ফোন গিয়েছিল, তিনি নোবেলজয়ী ছিলেন না। ঘটনাটি ঘটেছিল একই নামের দুই ব্যক্তিকে গুলিয়ে ফেলার কারণে। ১৯৮৭ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান মার্কিন রসায়নবিদ ডোনাল্ড জে ক্র্যাম। কৃত্রিম অণু নিয়ে তার গবেষণার জন্য তাকে এ সম্মান দেওয়া হয়। কিন্তু সুইডেন থেকে ফোন করার সময় নোবেল কমিটির প্রতিনিধি ভুল করে যোগাযোগ করেন ডোনাল্ড ও ক্র্যামের সঙ্গে। তিনি ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার আলতাডেনার একজন কার্পেট পরিষ্কারক ব্যবসায়ী। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১০ মিনিটে তার ঘুম ভাঙে সুইডেন থেকে আসা ফোনে। ফোনকারী তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তিনি রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। প্রথমে ডোনাল্ড ও ক্র্যাম ভেবেছিলেন, কেউ খুব ভালোভাবে সাজানো রসিকতা করছেন। ফোনের ওপাশের ব্যক্তির উচ্চারণ এবং পেছনের শব্দ তাকে আরও সন্দিহান করে তোলে। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন আসে। কথোপকথনে বোঝা যায়, নোবেল কমিটি আসলে ইউসিএলএর অধ্যাপক ডোনাল্ড জে ক্র্যামকে খুঁজছিল। তার ফোন নম্বর তালিকাভুক্ত না থাকায় একই নামের অন্য ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ হয়ে যায়।

প্র্যাঙ্ক ভেবে বাজি ধরেছিলেন ডেভিড ম্যাকমিলান

২০২১ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান স্কটিশ-আমেরিকান রসায়নবিদ ডেভিড ম্যাকমিলান ও জার্মান বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন লিস্ট। ‘অ্যাসিমেট্রিক অর্গানোক্যাটালিসিস’ নামের সবুজ রসায়ন প্রযুক্তি আবিষ্কারের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। নোবেল কমিটি যখন সুইডেন থেকে ফোন করার চেষ্টা করে, তখন যুক্তরাষ্ট্রে রাত ৩টা। একের পর এক অচেনা ফোন আসায় ডেভিড ম্যাকমিলান ভাবেন, কোনো ভুয়া টেলিফোনার বা বন্ধুবান্ধব তার সঙ্গে মজা করছে। এমনকি সহ-পুরস্কারবিজয়ী বেঞ্জামিন লিস্ট যখন ফোন করে তাকে বলেন, ‘আমরা দুজন তো নোবেল পেয়েছি!’, ম্যাকমিলান তা-ও বিশ্বাস করতে চাননি। ম্যাকমিলান এতটাই নিশ্চিত ছিলেন যে এটি একটি প্র্যাঙ্ক কল, তিনি বেঞ্জামিন লিস্টকে রসিকতা করে বলেন, আমি ১০০০ ডলার বাজি ধরে বলতে পারি, এই খবরটা ভুয়া এবং কেউ আমাদের নিয়ে চরম মজা করছে! লিস্ট তখন তাকে নোবেল কমিটির ওয়েবসাইটের লাইভ স্ট্রিম চেক করতে বলেন। এরপর ম্যাকমিলান ল্যাপটপ খুলে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখেন স্ক্রিনে সত্যি সত্যি তার নিজের ছবি এবং নাম দেখাচ্ছে, তখন তিনি পুরো হতবাক হয়ে যান! পরে সেই বাজির টাকা পরিশোধ করেন।

প্যাবোকে পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়েছিলেন সহকর্মীরা

২০২২ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান সুইডিশ জিনতত্ত্ববিদ স্ভান্তে প্যাবো। বিলুপ্ত মানবজাতি ‘নিয়ান্ডারথাল’ এবং ‘ডেনিসোভান’-এর জিনোম বা ডিএনএ সিকোয়েন্সিং করার ঐতিহাসিক গবেষণার জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

পুরস্কার পাওয়ার পর জার্মানির লাইপজিগে অবস্থিত ‘ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর এভোলিউশনারি অ্যানথ্রোপোলজি’-তে উদযাপনের এক পর্যায়ে ঘটে এক মজার ঘটনা। সেখানে তার সহকর্মী ও তরুণ গবেষকরা আনন্দের আতিশয্যে তাকে চ্যাংদোলা করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের একটি ছোট পুকুরের পানির মধ্যে ফেলে দেন!

মূলত ইনস্টিটিউটের এক পুরনো প্রথা ছিল কোনো শিক্ষার্থী পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করলে সহকর্মীরা তাকে ধরে ওই পুকুরে ফেলে আনন্দ উদযাপন করতেন। কিন্তু স্ভান্তে প্যাবো নোবেল পাওয়ার পর তার সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা ভাবলেন, জীবনের সেরা এই অর্জন উদ্যাপনের জন্য পুরনো এই ঐতিহ্যের চেয়ে দারুণ আর কিছু হতে পারে না! প্যাবো নিজেও পানিতে ভিজে হাসিমুখে এই উদ্যাপন উপভোগ করেন।

Share

সর্বশেষ সংযোজন

দিল্লির আন্দোলন নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের এখানে মূল্যায়ন আপাতত নেই। এটি ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি...

সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের

হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান সংকটে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। আজ...

এপ্রিল-জুন প্রান্তিক: দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ

চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪৬...

নোবেল লরিয়েটদের নোবেল জয়ের মুহূর্ত

কেউ ঘুমাচ্ছিলেন, কেউ ক্লাস নিচ্ছিলেন, কেউ আবার পাহাড়ে ছুটি কাটাতে গিয়ে ফোনই বন্ধ রেখেছিলেন। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর একটি নোবেল পাওয়ার খবরও অনেকের...

আপনাই জন্য

দিল্লির আন্দোলন নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের এখানে মূল্যায়ন আপাতত নেই। এটি ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি...

সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের

হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান সংকটে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। আজ...

এপ্রিল-জুন প্রান্তিক: দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ

চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪৬...

নোবেল লরিয়েটদের নোবেল জয়ের মুহূর্ত

কেউ ঘুমাচ্ছিলেন, কেউ ক্লাস নিচ্ছিলেন, কেউ আবার পাহাড়ে ছুটি কাটাতে গিয়ে ফোনই বন্ধ রেখেছিলেন। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর একটি নোবেল পাওয়ার খবরও অনেকের...

ট্রেন্ডিং নাও

সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশ্ব শিশু দিবস পালিত

সৌদি আরবের রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসে বিশ্ব শিশু দিবস পালিত হয়েছে। সোমবারের (০৭ অক্টোবর) এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ...

Related Articles

দিল্লির আন্দোলন নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম...

এপ্রিল-জুন প্রান্তিক: দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ

চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আগের...

টরন্টোতে গাইবেন বন্যা, নাচবেন শিবলী-নীপা

কানাডার টরন্টোতে ১৪ নভেম্বর বসতে যাচ্ছে সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘মোমেন্টস উইথ লেজেন্ডস’। নর্থ...

বিশ্বের দ্বিতীয় শক্তিশালী পাসপোর্ট এখন মালয়েশিয়ার, ভিসা ছাড়াই যাওয়া যাবে ১২৯ দেশে

আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুবিধার দিক থেকে মালয়েশিয়ার পাসপোর্টের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৬...

অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম, মেডিকেইড হারানোর আশঙ্কায় বৈধ অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে মেডিকেইড ও চিপ কর্মসূচিতে বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের...

কুইবেক নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের হাল-হকিকত

আগামী ৫ অক্টোবর কুইবেকের প্রাদেশিক নির্বাচনে চারজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।...

নিউ ইয়র্কে ‘আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক শ্রেষ্ঠত্ব সম্মাননা-২০২৬’ পেলেন ৬ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব

ব্যবসা, উদ্যোক্তা, পেশাগত নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন...

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে শেখ গালিব রহমানের অনন্য সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নেতৃত্ব, শিক্ষা, উদ্যোক্তা এবং নাগরিক অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ইউনাইটেড...