ফ্রান্সে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করেছে। একটি ক্রুজ জাহাজ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা এক ফরাসি নাগরিকের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ ধরা পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটিতে অবস্থান করা বাংলাদেশিরাও জানিয়েছেন উদ্বেগ। যদিও ফরাসি কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সাধারণ জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
ফরাসি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকা সফর শেষে ফিরছিল এমভি হন্ডিয়ুস নামের একটি ক্রুজ জাহাজ। যাত্রাপথে কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে তাদের নেওয়া হয় বিশেষ পর্যবেক্ষণে। পরে এক ফরাসি নাগরিকের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হলে দ্রুত আইসোলেশনে পাঠানো হয় তাকে।
ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সান্তে পুবলিক ফ্রঁস জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সংস্পর্শে আসা যাত্রী, জাহাজকর্মী এবং চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণে। সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে চালানো হচ্ছে কনট্যাক্ট ট্রেসিং কার্যক্রম।
ফ্রান্সে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করায় বিষয়টি নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা রেস্টুরেন্ট, পরিচ্ছন্নতা, গুদাম, নির্মাণ বা খাদ্য সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত, তারা স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বাড়িয়েছেন সতর্কতা।
প্যারিসে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশি জানান, ফরাসি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর কমিউনিটির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হলেও এখন পর্যন্ত আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর দিচ্ছেন গুরুত্ব।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফরাসি প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মল, মূত্র বা লালার মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত পরিবেশের ধুলোবালি বা শুকনো বর্জ্যের ক্ষুদ্র কণা বাতাসে ভেসে শরীরে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ঘটতে পারে। সাধারণত এই ভাইরাস সহজে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তবে চলমান ঘটনায় শনাক্ত হওয়া ভাইরাসের ধরন নিয়ে বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।






















