যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও কঠোর হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর বন্ধ থাকার পর নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের চরিত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ে আবারও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার নিয়ম চালু করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। সম্প্রতি সংস্থাটির প্রকাশিত এক নীতিমালায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
১৯৯১ সালের পর থেকে এই পদ্ধতিটি পুরোপুরি স্থগিত ছিল। সেই সময় ইউএসসিআইএস, যা আগে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাচারালাইজেশন সার্ভিস নামে পরিচিত ছিল, সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র যাচাইয়ের জন্য মূলত এফবিআই এর অপরাধমূলক ইতিহাস এবং অন্যান্য সংস্থার রেকর্ডের ওপরই নির্ভর করা হবে। তবে দীর্ঘ সময় পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আবারও পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরল সংস্থাটি।
গত ২৫ আগস্ট থেকে এই নতুন নীতি কার্যকর করা হয়েছে। এরপর ২৯ আগস্ট সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউএসসিআইএস জানায়, প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আবেদনকারীর বসবাস, উত্তম নৈতিক চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মঙ্গলের প্রতি তার মনোভাব গভীরভাবে যাচাই করা হবে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া একটি বিরল সুযোগ, যা কেবল তাদেরই পাওয়া উচিত যারা জাতির জন্য ইতিবাচক অবদান রাখবেন।
এই তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর পরিচিত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেবেন। এর মধ্যে থাকতে পারেন প্রতিবেশী, বাড়ির মালিক, চাকরিদাতা, সহকর্মী এবং আশপাশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। মূলত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে যেসব তথ্য সাধারণত উঠে আসে না, সেসব বিষয়ে ধারণা পেতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তবে সব আবেদনকারীর জন্য এই তদন্ত বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে এই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ জন্য আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র বা চরিত্র সনদ জমা দিতে হবে, যেখানে তার যোগ্যতা, চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সংবিধানের নীতিগুলোর প্রতি তার শ্রদ্ধার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এই ধরনের চিঠিপত্র জমা দিলে ইউএসসিআইএস চাইলে প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি মওকুফ করতে পারে, যদিও তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়।
এই নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ বি এডলো। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা, আমেরিকান মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সঙ্গে যথাযথভাবে মিশে যাওয়া নিশ্চিত করা এবং নাগরিকত্বের মর্যাদা ও বিশেষ সুবিধা সুরক্ষার জন্য প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি।
শুধু প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদই নয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের জন্য আরও কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ইউএসসিআইএস। গত ২০২৫ সালের অক্টোবরে নাগরিকত্বের জন্য নির্ধারিত সিভিকস বা পৌরনীতি পরীক্ষাকে আরও দীর্ঘ ও কঠিন করা হয়েছে। আগে যেখানে ১০০টি প্রশ্নের একটি ব্যাংক থেকে প্রশ্ন করা হতো, তা বাড়িয়ে ১২৮টি করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তারা এখন ১০টির বদলে সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করতে পারবেন।
পরীক্ষায় পাসের জন্য আগে ৬টি সঠিক উত্তরের প্রয়োজন হলেও এখন তা বাড়িয়ে ১২টি করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি এবং যারা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে গ্রিন কার্ডধারী, তাদের জন্য এই নিয়মে শিথিলতা রয়েছে। তবে পাসের জন্য সব আবেদনকারীকেই আগের মতো কমপক্ষে ৬০ শতাংশ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে।
সূত্র: ইউএসসিআইএস পলিসি অ্যালার্ট





