মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় তেল সম্মৃদ্ধ দেশ কুয়েত। এদেশে বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্মাণকাজের ব্যাপক শ্রমিক চাহিদা রয়েছে। কুয়েত এবং বাংলাদেশ মধ্যে নারী গৃহকর্মী প্রেরণে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়নি। তবে, দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে কুয়েতে আসার পর কর্মস্থলে মানবিক সংকট ও নির্যাতনের শিকার হয়েগত ৩ মাসে ৭জন গৃহকর্মী কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা দেশে পাঠানো হয়।
৫ মাস আগে কুয়েতে আসা নির্যাতনের শিকার আমেনা খাতুন নামে গৃহকর্মীকে গতকাল বুধবার প্রশাসনের সহায়তায় ফাহাদ আল আহমেদ এলাকায় কুয়েতির বাসা থেকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ দূতাবাস কুয়েত।
দূতাবাসের কাউন্সিলর মো. শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য উল্লেখ্য করা হয়।
কুয়েতে অভিবাসনপ্রত্যাশী নারী গৃহকর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুয়েত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অথবা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক ‘নারী গৃহকর্মী (খাদ্দামা) ভিসা’ সত্যায়ন করা সম্ভব হয় না।
অথচ এক বা একাধিক অসাধু চক্র অবৈধ পন্থায় বাংলাদেশ থেকে নারী গৃহকর্মী কুয়েতে প্রেরণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন নারী গৃহকর্মী নানা ধরনের নির্যাতন ও মানবিক সংকটের শিকার হচ্ছেন।
বাংলাদেশে কিছু অসাধু ট্রাভেল এজেন্সিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুয়েতে নারী গৃহকর্মী ভিসাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দক্ষ-অদক্ষ নারী পুরুষ বিদেশে পাঠানো বিজ্ঞাপন দিতে দেখা যায়। দালালের ফাঁদে পড়ে আসার পর কথা কাজে মিল খুঁজে না পেয়ে প্রতারিত হচ্ছেন কেউ বা আবার নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরছেন।
যদিও কুয়েতে নারী গৃহকর্মী প্রেরণের বিষয়ে বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার পূর্বে যেকোনো বাংলাদেশী নারীকে গৃহকর্মী হিসেবে কুয়েতে আগমন করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।
এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা প্রতিরোধে অসাধু চক্রের প্রলোভন থেকে সাবধান থাকার এবং এই অসাধু চক্রগুলিকে প্রতিরোধ করার জন্য সকলের সচেতনতা ও সহযোগিতা কমনা করা হয়।





