কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. খলিলুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তাকে অবিলম্বে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ড. মো. খলিলুর রহমান অটোয়া থেকে ঢাকায় ফিরছেন।
এর আগে গত বছরের ২১ আগস্ট আগের চুক্তির ধারাবাহিকতা ও একই শর্তে ৩১ অক্টোবর থেকে ড. মো. খলিলুর রহমানকে ছয় মাসের জন্য একই পদে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ডি. এম. সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ড. মো. খলিলুর রহমানকে ঢাকায় বদলির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তাকে অটোয়াতে বর্তমান দায়িত্বভার ত্যাগ করে অবিলম্বে ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বিধি অনুযায়ী ভ্রমণ ব্যয় ও অন্যান্য ভাতা পাবেন। যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ও জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে চাকরির মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ১০ রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ডেকে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১০ রাষ্ট্রদূতের মধ্যে পেশাদার কূটনীতিক মো. মনিরুল ইসলাম (ইতালি) ও আসুদ আহমেদ (গ্রিস) এর দুজনেরই অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) শুরু হবে এপ্রিলে। এ ছাড়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে খলিলুর রহমান (কানাডা) ও মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার (জার্মানি) মেয়াদ শেষ হবে এপ্রিলে, মোহাম্মাদ সুফিয়ুর রহমান (সুইজারল্যান্ড) ও মেজর জেনারেল মো. আশিকুজ্জামানের (কুয়েত) মেয়াদ শেষ হবে মে মাসে, সুলতানা লায়লা হোসেন (পোল্যান্ড) ও মোহাম্মাদ আব্দুল হাইয়ের (থাইল্যান্ড) মেয়াদ শেষ হবে জুনে এবং শাহাবুদ্দিন আহমদ (জাপান) জুলাই মাসে ও মো. ফজলুল বারীর (ইরাক) মেয়াদ শেষ হবে সেপ্টেম্বরে। এর মধ্যে ৯ জনকে ইতোমধ্যে ফেরত আসার বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রক্রিয়া অনুযায়ী রাষ্ট্রদূতদের কাছে নির্দেশনা যায় অবিলম্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার জন্য। কিন্তু প্রথা হচ্ছে— মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বা দুই দিন আগে তারা রিপোর্ট করেন। তবে এতে প্রশাসনিক কাজের কোনো ব্যত্যয় হয় না।
ড. খলিলুর রহমান বিসিএসের ১৯৮৫ ব্যাচের পররাষ্ট্র বিভাগের ক্যাডার। পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ও নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে কাজ করেছেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর খলিলুর রহমান প্যারিসের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির ওপর মাস্টার্স ও এমফিল করেন। তিনি জনস্বাস্থ্যের ওপর নতুন দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন।










