পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে প্যারিসে প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশি মুসলিম প্রবাসীরা। আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় ঈদ জামাত ও আনন্দমেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে বাংলাদেশিদের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও পাঁচটি ঈদ জামাতের প্রস্তুতি নিয়েছে স্তাঁয় অবস্থিত এই ইসলামিক সেন্টার।
সকাল সাড়ে ৭টায় প্রথম জামাত শুরু হবে। প্রতি ৪৫ মিনিট অন্তর একেকটি জামাত রেখে সকাল সাড়ে ১০টায় শেষ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ঈদ আয়োজনে নারীদের নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, ভিন্ন সংস্কৃতি ও পরিবেশের মধ্যেও আমরা আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে আজ একত্রিত হয়েছি।
রমজান ও শবে কদর উপলক্ষ্যেও আমরা ইফতার ও সেহরির আয়োজন রেখেছিলাম। ঈদের সময়ও সুধীজনদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা রেখেছি। এই ঈদ জামাত শুধু ইবাদতের নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলে আমরা মনে করি।
এছাড়া লা কুরনেভ এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের উদ্যোগে খোলা মাঠ বা ভাড়া করা হলরুমে জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন ও মসজিদ কমিটি যৌথভাবে এ আয়োজন পরিচালনা করছে। একইভাবে সাঁ-দেনি এলাকাতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে ছোট পরিসরে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বৃহত্তর মুসলিম সমাজের জন্য প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী ‘লা গ্রঁদ মসকি দ্য পারি’তে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে সাধারণত সকাল ৮টা ও ৮টা ৪৫ মিনিটে দুই দফা জামাত হয়, যেখানে বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও মেট্রো হোশ, সার্খসেল ইনডোর স্টেডিয়ামসহ ফ্রান্সের ছোট-বড় শহরের মসজিদগুলোতেও ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
ওভারভিলিয়ে বাংলাদেশি জামে মসজিদ বরাবরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাতের আয়োজন করতে যাচ্ছে। সকাল সোয়া ৭টায় শুরু হবে ঈদের প্রথম জামাত। এ প্রসঙ্গে মসজিদের খাদেম সালেহ আহমদ বলেন, ঈদের জামাত আয়োজন আমাদের কমিউনিটির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতির এক উজ্জ্বল প্রতীক। প্রবাসের জীবনেও আমরা আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারছি এবং মুসলিম ভাই-বোনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে সক্ষম হচ্ছি।
ঈদের নামাজ শেষে শুরু হবে আনন্দ-উৎসব। বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্সের (বিসিএফ) উদ্যোগে ঈদের দিন বিকেলে পার্ক দ্য লা ভিলেত-এ আয়োজন করা হয়েছে ‘ঈদ ফেস্টিভ্যাল প্যারিস ২০২৬’। এখানে থাকবে খাবারের স্টল, পোশাকের দোকান, শিশুদের বিনোদন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একই দিনে প্লাস দ্য ফেত প্যারিসে অনুষ্ঠিত হবে ঈদ আনন্দ মেলা।
এছাড়া বাস্তিল চত্বরে বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর উদ্যোগে ঈদ বাজার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অপরদিকে ওবেরভিলিয়ে এলাকার বিভিন্ন কমিউনিটিতেও বাংলাদেশিরা নিজস্ব মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খাবারের আয়োজন করে থাকে।
পাশাপাশি ২২ মার্চ ল্য ফিনিক্স-এ অনুষ্ঠিত হবে ‘ফেত ঈদ ২০২৬’, যেখানে লাইভ সংগীত, খাবার ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম থাকবে।
আয়োজকদের মতে, প্রবাসে থেকেও নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে বাংলাদেশিরা আলাদা করে জামাত ও উৎসবের আয়োজন করে থাকেন। এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতি ও ইসলামী মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।










