মসনদে বসেই কঠোর অভিবাসন নীতির দিকে নজর ট্রাম্পের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
Share

জন্মগত নাগরিকত্বের সংজ্ঞা নির্ধারণের আদেশ থেকে শুরু করে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা ইস্যুতেও  ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের দ্রুত পদক্ষেপ নিলেন প্রথম কর্মদিবসেই।অবশ্য এর আগেই যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে কড়াকড়ি বিধি-নিষেধ আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে জন্মগত নাগরিকত্বের সংজ্ঞা পরিবর্তন বিষয়ে যে কোনও আদেশ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে এর আগেই ট্রাম্প অবশ্য বাইডেন প্রশাসনের ‘ধ্বংসাত্মক’ নীতিগুলো ‘পাঁচ মিনিটের মধ্যেই’ বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।  আর এর কয়েক ঘণ্টা আগেই, হাজার হাজার অভিবাসন প্রত্যাশীর অ্যাপয়েন্টমেন্টও বাতিল করা হয়। কারণ নতুন প্রশাসন ‘সিবিপি অন’ অ্যাপ বাতিল করে।

উল্লেক্ষ্য, এই অ্যাপের মাধ্যমে মূলত সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের জন্য আগে থেকেই বুকিং করতে হয়।

ট্রাম্প তার উদ্বোধনী ভাষণে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ‘সমস্ত অবৈধ প্রবেশ বন্ধের পাশপাশি লক্ষাধিক ‘অবৈধ অভিবাসী’ ফেরত পাঠানো হবে।

এমনকি তিনি মেক্সিকোর মাদক চোরাকারবারী চক্রগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেয়ার একটি আদেশেও স্বাক্ষর করেন দায়িত্ব নেয়ার পর।

এর আগে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটাল ওয়ান এরিনায় এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বিগত বাইডেন প্রশাসনের প্রায় ৮০টি নির্বাহী আদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেন, যেগুলোকে তিনি ‘উগ্রপন্থী’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

এদিন ক্যাপিটল হিলের উদ্বোধনী ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজের দেশকে হুমকি এবং আক্রমণ থেকে রক্ষা করা”।

আর এরই অংশ হিসেবে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে প্রেসিডেন্ট প্রতিরক্ষা বিভাগকে ‘সীমান্ত সিল’ করার নির্দেশ দেবেন এবং সেখানে অতিরিক্ত জনবল, ড্রোন এবং প্রযুক্তির ব্যবহারও করা হবে।

এর আগে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন যে এই পদক্ষেপগুলো ‘স্বাভাবিক বোধসম্পন্ন অভিবাসন নীতি’ তৈরির সমতুল্য।

যদিও আদেশের বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি। তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্রাম্প জন্মগত নাগরিকত্ব বন্ধ করার পরিকল্পনা করছেন। এর মানে হলো, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানরা আর আগের মতো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে গণ্য হবেন না।

তবে, জন্মগত নাগরিকত্বের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানেই আছে এবং এটি পরিবর্তন করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন।

যে কারণে কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত যেমন জানাননি অনুরূপ ট্রাম্প কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করবেন সে বিষয়েও পরিষ্কার করে কিছু জানায়নি।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন খুব দ্রুতই ‘সিবিপি অন’ মোবাইল অ্যাপ বাতিলের পদক্ষেপ

বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে এই অ্যাপটি ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে চালু হওয়ার পর থেকে সীমান্তে আটক হওয়া মানুষের সংখ্যা কমাতে সাহায্য করেছে। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয় প্রার্থনা করার একমাত্র বৈধ উপায়।

এখন, কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি-এর ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এই অ্যাপটি আর কার্যকর নেই’।

ইতোমধ্যে এটি ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যবহৃত অ্যাপে ঢুকে দেখতে পান যে ‘সিবিপি অ্যাপের মাধ্যমে আগের নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টগুলো এখন আর বৈধ নয়’।

বিবিসি’র যুক্তরাষ্ট্রের পার্টনার প্রতিষ্ঠান সিবিএস’র রিপোর্টে বলা হয়েছে, সিবিপি অন অ্যাপের মাধ্যমে বাইডেন প্রশাসন আগামী তিন সপ্তাহের জন্য ৩০ হাজার অভিবাসীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট চূড়ান্ত করেছিল।

ধারণা করা হচ্ছে, সিবিপি অন অ্যাপ ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার অভিবাসী মেক্সিকোতে অপেক্ষা করছিলেন।

মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিজুয়ানায় কিছু অভিবাসন প্রত্যাশী জানিয়েছেন যে তারা সিবিপি অন অ্যাপ ব্যবহার বন্ধ হওয়ার কারণে হতাশ এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

“আমি প্রত্যাশা করি ঈশ্বর তার মনটাকে নরম করবে”, বলছিলেন ওরালিয়া নামের একজন মেক্সিকান নারী। যিনি মেক্সিকোর কার্টেলের সহিংসতা থেকে বাঁচতে নিজের মৃগী আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে এসেছিলেন।

তিনি সাত মাস ধরে সিবিপি অন অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

নতুন প্রশাসনের সিবিপি অন অ্যাপ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ আইনি চ্যালেঞ্জ করেছে আমেরিকান সিভিল লিবারটিজ ইউনিয়ন। এ নিয়ে তারা আদালতে শুনানির জন্য কাগজপত্রও জমা দিয়েছে।

অভিবাসন বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ট্রাম্পের অভিবাসন আদেশগুলো নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের সভাপতি এবং সিইও জেনি মারে বলেছেন, এই আদেশগুলো “হতাশাজনক কিন্তু অপ্রত্যাশিত নয়”।

তিনি বলেন, “প্রত্যাশিত এই আদেশগুলো পরিবারগুলোকে আলাদা করবে এবং আমাদের অর্থনীতিকে দুর্বল করবে’’।

“এগুলো আমেরিকান মূল্যবোধের সাথেও যায় না”, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় অভিবাসী যুব সংগঠন ইউনাইটেড উই ড্রিমের নির্বাহী পরিচালক গ্রেইসা মার্টিনেজ রোসাস বলেছেন, “এই আদেশগুলোর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে আগামী চার বছর এগুলো আমাদের জীবন অনেকটা ধ্বংস করে দেবে”।

“অভিবাসন ঠেকাতে ট্রাম্পের এই অভিযান ও ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেশব্যাপী ধ্বংসাত্নক প্রভাব ফেলবে। যদি নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেন কিংবা প্রতিরোধ গড়ে না তোলেন, তাহলে লাখ লাখ পরিবার ও ব্যক্তির জীবন এলোমেলো হয়ে যাবে”, যোগ করেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

 

Share

সর্বশেষ সংযোজন

প্রযুক্তি সাংবাদিকদের সংগঠন টিএমজিবির দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

প্রযুক্তি সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশ (টিএমজিবি)-এর দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার রাজধানীর শুক্রাবাদে ড্যাফোডিল টাওয়ারের ৭১ মিলনায়তনে এ...

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা লিটনের অনন্য যাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসজীবনে শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নিজের মেধা, সততা এবং দূরদর্শিতার জোরে সাফল্যের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা তোফায়েল চৌধুরী লিটন । তার...

মানবপাচার জালিয়াত চক্রে বাংলাদেশি
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু নাগরিক মানবপাচারে জালিয়াত চক্র গড়ে তুলেছে। সাম্প্রতিক অভিযানে বেশ কিছু বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এরপরই মালয়েশিয়ায়...

কূটনৈতিক টানাপড়েন
পরবর্তী হাইকমিশনার ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে আরেকটি জটিলতা

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নানা বিষয়ে টানাপড়েন চলছে। তার ওপর যুক্ত হয়েছে নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে বাংলাদেশের পরবর্তী...

আপনাই জন্য

প্রযুক্তি সাংবাদিকদের সংগঠন টিএমজিবির দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

প্রযুক্তি সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশ (টিএমজিবি)-এর দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার রাজধানীর শুক্রাবাদে ড্যাফোডিল টাওয়ারের ৭১ মিলনায়তনে এ...

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা লিটনের অনন্য যাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসজীবনে শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নিজের মেধা, সততা এবং দূরদর্শিতার জোরে সাফল্যের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা তোফায়েল চৌধুরী লিটন । তার...

মানবপাচার জালিয়াত চক্রে বাংলাদেশি
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু নাগরিক মানবপাচারে জালিয়াত চক্র গড়ে তুলেছে। সাম্প্রতিক অভিযানে বেশ কিছু বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এরপরই মালয়েশিয়ায়...

কূটনৈতিক টানাপড়েন
পরবর্তী হাইকমিশনার ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে আরেকটি জটিলতা

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নানা বিষয়ে টানাপড়েন চলছে। তার ওপর যুক্ত হয়েছে নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে বাংলাদেশের পরবর্তী...

ট্রেন্ডিং নাও

AI in Power System Protection: New Horizons in Research

In the modern world, the application of Artificial Intelligence (AI) and automated technologies has opened new frontiers in securing power systems and ensuring...

অবৈধ অভিবাসী বিদায় করতে ‘সীমান্ত সম্রাট’ টম হোমানকে নিয়োগ দিলেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের 'অবৈধ অভিবাসী সমস্যা' সমাধান। নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের দিনই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড়...

‘রেমিট্যান্স–যোদ্ধারা যখন বিমানবন্দরে আসবেন, তাঁদের স্যার বলতে হবে’

শুটিংয়ের কারণে মাঝেমধ্যে দেশের বাইরে যান তরুণ অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। আসা-যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে যেমন মাঝেমধ্যে ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছে, তেমনি অন্য অনেকের...

Related Articles

মানবপাচার জালিয়াত চক্রে বাংলাদেশি
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু নাগরিক মানবপাচারে জালিয়াত চক্র গড়ে তুলেছে।...

কূটনৈতিক টানাপড়েন
পরবর্তী হাইকমিশনার ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে আরেকটি জটিলতা

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নানা বিষয়ে টানাপড়েন চলছে। তার ওপর যুক্ত...

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১৭৫ অভিবাসী আটক

বৈধ কাগজপত্র নেই—আবার কারও বৈধ কর্ম-অনুমতিপত্র থাকলেও কাজ করছেন অন্য কোম্পানিতে। বিদেশি...

ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্কবার্তা দিল মার্কিন দূতাবাস

বি১/বি২ ভিজিটর ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের কয়েকটি কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক...

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধে ট্রাম্পের উদ্যোগ আবারও আটকে দিলেন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ উদ্যোগ আটকে...

৩৫ বছর পর ইমিগ্রেশন নীতিতে বদল: মার্কিন নাগরিকত্বে ফিরল আগের নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও কঠোর হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর বন্ধ...

বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি হারানোর শঙ্কা : বিশ্বব্যাংক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক...

৪০তম ফোবানা সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র গেছেন প্রবাসী...