ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এ উপলক্ষে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে।
গতকাল স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়।
এ সময় ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম এ তালহা, দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক মহলের প্রতিনিধিরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পরে দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেম। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।

এ অনুষ্ঠানে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
এর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এছাড়া বক্তারা তাদের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’
এদিন একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে মনে করেন, প্রবাসে এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশের ইতিহাস ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও এ ধরনের উদ্যোগ সহায়ক।
শেষে রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

















