গভীর শ্রদ্ধা, যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সদস্য, শিক্ষার্থী, রেমিট্যান্স যোদ্ধা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
সকালে হাই কমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে হাইকমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
পতাকা উত্তোলনের পর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। পাশাপাশি দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে একটি তথ্যবহুল প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এরপর আয়োজিত আলোচনা সভায় দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনেরা বক্তব্য দেন। বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, মহান স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে বীর শহিদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। পাশাপাশি স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে গত পাঁচ দশকে দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও তিনি তুলে ধরেন। দেশকে এগিয়ে নিতে প্রবাসীদের অব্যাহত সহযোগিতা অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনা পর্ব শেষে আয়োজন করা হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন ও স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে কবিতা আবৃত্তি করা হয়। পরিবেশনাগুলোর মাধ্যমে দেশপ্রেম, স্বাধীনতার চেতনা এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দিবসটি উদযাপনের মাধ্যমে দেশের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার, গভীর দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের চেতনাকে নতুন করে দৃঢ় করেন।


















